Saturday, October 17, 2015

Last Letter of Bangabandhu বঙ্গবন্ধুর শেষ চিঠি।

last letter of bangabandhu: http://freedomfighters71.blogspot.com/... পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর কিংবা তাকে লেখা বিভিন্ন জনের বাজেয়াপ্ত করা চিঠিপত্র  
একদিকে যেমন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক উপাদান, তেমনি আরেকদিকে বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য যথেষ্ট শিক্ষণীয়। বিশেষ করে দেশ ও দেশের জনগণকে ভালোবাসলে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, কতটা কষ্টবরণ করতে হয়- সেই শিক্ষা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দিয়ে গেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর বাজেয়াপ্ত চিঠিপত্রের যথেষ্ট গুরুত্ব ও আবেদন রয়েছে। ২০০৮ সালের ফেব্র"য়ারিতে বাংলা একাডেমী থেকে আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র অসাধারণ নেতাই ছিলেন না, ব্যক্তি হিসেবেও তিনি ছিলেন মহান। দেশের জন্য জনগণের জন্য জেলজুলুমের শিকার হয়েছেন, কত ত্যাগ আর কষ্ট করে গেছেন, আজকের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত অনেক নেতার পক্ষেই সেটা কল্পনাতীত। 'বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ'-এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবন গ্রন্থ প্রণয়নকালে আমরা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা স্পেশাল ব্রাঞ্চের দফতর থেকে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করি। শেখ মুজিব সংক্রান্ত ওই নথিপত্রের মধ্যে অনেক চিঠি ছিল। বিভিন্নজনকে বঙ্গবন্ধুর লেখা এবং সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে লেখা কিংবা তাকে নিয়ে নানাজনের চিঠিপত্র পাওয়া গেছে সেখানে। পাকিস্তান আমলে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে গোয়েন্দা সংস্থা এসবি ওই সকল চিঠি বাজেয়াপ্ত করেছিল। ১৯৪৯ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে বঙ্গবন্ধু দু'টি চিঠি লিখেছিলেন। যা হোক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের বাজেয়াপ্ত করা চিঠিগুলো থেকে আমরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমন অনেক কিছু তথ্য পেয়েছি যা এ যাবৎ অজ্ঞাত ছিল আমাদের কাছে; মনে হয় তেমনি বাঙালি জাতির অনেকেরও তা জানা ছিল না। রাজনীতির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি অনেক তথ্যই তাতে উঠে এসেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দি থাকাকালে ১৯৫১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে শেখ মুজিব দু'টি চিঠি লেখেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ জেনারেল সেক্রেটারি শামসুল হক এবং সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। চিঠি দু'টি একই খামে ভরে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দারা তা বাজেয়াপ্ত করে। শামসুল হককে লেখা চিঠিতে মুজিব এক জায়গায় বলেছেন,“'... নানা কারণে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়াছি, আমার কোন কিছুর দরকার নাই। যদি ২/১ খানা ভাল ইতিহাস অথবা গল্পের বই পাঠাতে পারেন তবে সুখী হব। বহুদিন মওলানা সাহেবের কোন সংবাদ পাই নাই, এখন কেমন আছেন এবং কোথায় আছেন জানালে সুখী হব। আপনার শরীর কিরূপ, বন্ধু-বান্ধবদের আমার সালাম দিবেন কোন রকম ভয়ের কারণ নাই, তাদের জানাবেন। আমি শীঘ্রই আরোগ্য লাভ করবো বলে আশা করি, বাকি খোদা ভরসা।...'” অন্যদিকে মানিক মিয়াকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, 'শুনে সুখী হবেন, সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি কারণ আর কতদিন বাবার পয়সার সর্বনাশ করা যায়। আর শরীরের অবস্থাও
ভাল না। কারণ হঠাৎ ঢাকা জেলে আসার পর থুথুর সাথে পর পর তিনদিন কিছু রক্ত পড়ে, তবে সে রক্ত সর্দি শুকাইয়াও হতে পারে আবার হাঁচি খুব বেশি হয় বলে অনেক সময় গলা থেকেও রক্ত পড়তে পারে। আর কাশের সাথেও হতে পারে, তাই নিজের থেকে হুঁশিয়ার হয়ে যাওয়া ভাল।' একই চিঠিতে বঙ্গবন্ধু আরও লিখেছেন: 'ঢাকা জেলের সুপার সাহেব খুব ভাল ডাক্তার, তাই শীঘ্রই ভাল হয়ে যাবো বলে আশা করি। চিন্তার কোনই কারণ নাই। জেলখানায়ও যদি মরতে হয় তবে মিথ্যার কাছে কোনদিন মাথা নত করবো না। আমি একলা জেলে থাকতে আপনাদের কোন অসুবিধা হবে না। কাজ করে যান খোদা নিশ্চয়ই সাহায্য করবে। আমার জন্য কিছুই পাঠাবেন না। আমার কোন কিছুরই দরকার নাই। নতুন চীনের কিছু বই যদি পাওয়া যায় তবে আমাকে পাঠাবেন। চক্ষু পরীক্ষার পর আপনাকে খবর দিবো। কারণ চশমা কিনতে হইবে। নিজেই দরখাস্ত করে আপনার সাথে দেখা করতে চেষ্টা করব।' শুধুমাত্র জেলবন্দি থাকা অবস্থাতেই নয়, জেলের বাইরে অবস্থানের সময়ও শেখ মুজিবের লেখা অনেক চিঠি স্পেশাল ব্রাঞ্চ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করে। ১৯৫২ সালের ২৮শে মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে শেখ মুজিব দু'টি চিঠি লেখেন ঢাকার হাটখোলা রোডে ঠিকানায় মানিক মিয়াকে এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হায়দারাবাদের ঠিকানায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। ইংরেজিতে লেখা দু'টি চিঠিই গোয়েন্দা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। দু'টি চিঠির মাধ্যমে দু'জনকে মুজিব জানিয়েছেন তার শারীরিক অসুস্থতা-বিশেষ করে রক্ত আমাশয়ে (Blood dysentry) আক্রান্ত হওয়ার কথা। ১৬ এপ্রিলের আগেই ঢাকায় রওয়ানা হওয়ার কথা। মানিক মিয়াকে চিঠিতে তার পত্রিকা যে কোন মূল্যে চালিয়ে যাওয়া এবং তার জন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে শেখ মুজিব দলীয় কর্মী ওয়াদুদ (ইত্তেফাকে কর্মরত। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির পিতা) অসুস্থ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে তার জন্য গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কাছে লেখা চিঠিতে তাকে দেখার অধীর আগ্রহ ব্যক্ত করার পাশাপাশি শেখ মুজিব তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত মন্তব্যের সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থা-বিশেষ করে বিগত আড়াই বছরের
কারারুদ্ধ অবস্থায় তার শরীর ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টিও জানিয়েছেন। হাটখোলা রোডে মানিক মিয়ার ঠিকানায় তাকে চিঠি লেখার অনুরোধ জানিয়ে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মাধ্যমে বন্ধু ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সালাম জানিয়েছেন শেখ মুজিব। ১৬ এপ্রিলের পূর্বে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে মানিক মিয়ার একটি চিঠির জবাবে ৬ এপ্রিল মুজিব টুঙ্গিপাড়া থেকে আরেকটি চিঠি লিখেছেন। মানিক মিয়াকে ইংরেজিতে লেখা সে চিঠিটাও গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকার ওয়ারী পোস্ট অফিস থেকে জব্দ করে। ওই চিঠিতে বঙ্গবন্ধু ঢাকার মানিক মিয়ার সঙ্গে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কারণ তার অসুস্থ শরীরে হোটেলের খাবার সহ্য হবে না। ওই চিঠি পড়ে জানা যায়, ১৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় প্রদানের কথা আছে, রায় কী হবে সেটা তিনি জানেন না। তবে যে কোনো পরিস্থিতি বরণ করতে তিনি প্রস্তুত। চিঠিতে শেখ মুজিব বলেন, 'Manik Bhai I can not forget your love and affection (মানিক ভাই, আমি আপনার ভালবাসা এবং স্নেহের কথা বিস্মৃত হতে পারি না।)' বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পথ কুসুমার্স্তীর্ণ ছিল না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগ্রাম করে যে তাকে এগোতে হয়েছে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ফাইল থেকে পাওয়া চিঠিপত্রে বর্ণিত বিষয়গুলিই তার সাক্ষ্য। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা মামলায় তাকে বার বার জেলে যেতে হয়েছে। তাতে তিনি কাবু হন নি। ১৯৫৮ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক বন্দি থাকা অবস্থায় বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে লেখা পুলিশ কর্তৃক বাজেয়াপ্ত এক চিঠিতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, '... মা এবার খুব কষ্ট পেয়েছিল; কারণ এবার তার সামনেই আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দোয়া করবেন
মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই করতে পারবে না। আমাকে ডাকাতি মামলার আসামীও একবার করেছিল। আল্লাহ আছে, সত্যের জয় হবেই। আপনি জানেন, আমার কিছু নাই। দয়া করে ছেলেমেয়েদের দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি যেতে বলে দিতাম। কিন্তু ওদের লেখাপড়া নষ্ট হয়ে যাবে।' আজ নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু পরিবারকেও কম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত তো জাতির পিতার সঙ্গে সবাই আত্মহুতি দিয়েছেন কেবলমাত্র দুই কন্যা ব্যতীত। এ লেখার প্রতিপাদ্য স্পেশাল ব্রাঞ্চের ফাইল থেকে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর বাজেয়াপ্ত চিঠিপত্রের মধ্যেই সীমিত রাখতে চাই। ওই চিঠিপত্রে আমরা দেখতে পাই, গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরা কেবল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গই বঞ্চিত হননি, বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে তাদেরকে ষাটের দশকের গোড়ায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে স্থিতিশীল হওয়ার আগ পর্যন্ত বার বার ঠিকানা বদল করতে হয়েছে। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় তখন অনেকেই তাদের বাড়ি ভাড়া দিতেও ইতস্তত করতেন। পঞ্চাশ দশকে জেলের বাইরে অবস্থানের সময় শেখ মুজিবকে একেক সময় একেক ঠিকানা ব্যবহার করতে দেখা গেছে বাজেয়াপ্ত চিঠিপত্রে। অনেক চিঠিতে তিনি আবার তৎকালীন পূর্ব পকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের ৯৮,
নবাবপুর রোডের কার্যালয়ের ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। ১৯৫২ সালের ১৪ জুনে লাহোর থেকে লিখিত সিন্ধু হায়দারাবাদে অবস্থানরত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে লেখা চিঠিতে বঙ্গবন্ধু তার ঠিকানা দিয়েছেন ঢাকার ৭১, রাধিকা মোহন বসাক লেন। ওই চিঠিতে মুজিব তার তৎকালীন নেতা মোহরাওয়ার্দীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, 'Please dont think for me. I have born to suffer. (অনুগ্রহ করে আমার জন্য ভাববেন না, আমার জন্মই হয়েছে কষ্ট ভোগের জন্য)।' ১৯৫৮ সালের ২১ নভেম্বর, ১২ ডিসেম্বর ও ২৩ ডিসেম্বর এবং ১৯৫৯ সালের ৫ই জানুয়ারি, ২৯ জানুয়ারি ও ১৮ ফেব্র"য়ারিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দি হিসেবে স্ত্রী সন্তান ও আইনজীবীসহ অন্যান্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চেয়ে ডিআইজ, এসবি পূর্ব পাকিস্তান রবাবরে লিখিত আবেদনপত্রসমূহে বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছার ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, 'Mrs. Fazilaton Nesa, C/O- Sheikh Mujibur Rahman, in front of Sideshwari High School, Dacca. (মিসেস ফজিলাতুন্নেছা, প্রযতে� শেখ মুজিবুর রহমান, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, ঢাকা।)' বাজেয়াপ্ত চিঠিপত্রের সূত্রে দেখা যায়, কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিব ১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা পুলিশ সুপারকে জব্দকৃত জীপ ফেরতদানের, ১৯৫৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর লাইসেন্সকৃত বন্ধুক ও পিস্তল ফেরতদানের, ১৯৬০ সালে ১৮ মার্চ জেল থেকে মুক্তি পাবার পর সরকারকে নিজ গতিবিধি সম্পর্কে, ২২ জুলাই ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় রওয়ানা হওয়ার বিষয়ে প্রভৃতি দরখাস্তে বঙ্গবন্ধু তার ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, '76, Segun Bagicha, Ramna, Dacca-2 (৭৬ সেগুনবাগিচা, রমনা, ঢাকা-২)'। আবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় যাওয়ার পর ১৯৬২ সালের ৩ এপ্রিল থেকে নিরাপত্তা বন্দি হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদনপত্রে তাদের ঠিকানা হিসেবে '677 Dhanmondi residencial Area, Road No. 32, Dacca (৬৭৭ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, সড়ক নম্বর ৩২, ঢাকা।)' উল্লেখ করা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর বাজেয়াপ্ত চিঠিপত্র সূত্রে জানা যায়, জেলখানায় বসেও তিনি অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কারাগারের বাইরে মুক্ত থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক নেতা ও সহকর্মীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময়ের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকার নবাবপুরের আওয়ামী মুসলিম লীগের দফতর থেকে করাচির কূটচেরি রোডে সোহরাওয়ার্দীর ঠিকানায় বঙ্গবন্ধু ইংরেজিতে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, তার ও আতাউর রহমান খানের উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সফর বিপুল সাড়া জাগালেও সংগঠনের জন্য অর্থের প্রয়োজন। পাটের মূল্য কম থাকায় সাধারণ মানুষ অভাব-অনটনে আছে। তাদের কাছে তহবিলের জন্য আবেদন করা যাবে না। একইভাবে ইত্তেফাক-এর প্রকাশনা অব্যাহত রাখার জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং অভিভাবকতুল্য সহকর্মী তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকেই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক সহকর্মী- এমন কী মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও চিঠি লিখে তাদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। কারাগারের ভেতর এবং বাইরে থেকে লেখা এ ধরনের চিঠিও তখনকার পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দারা জব্দ করতেও দ্বিধা করেনি। পাকিস্তান সরকারের বাজেয়াপ্ত করা চিঠিপত্র থেকে একটি জিনিস স্পষ্টই বোঝা যায় যে রাজনৈতিক সহকর্মী বা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অপরিসীম দরদ। অনেক সময় তিনি তাদের পরিবার-পরিজনকে চিঠি লিখে সান্ত্বনা বা সহমর্মিতা জানিয়েছেন। ছাত্রনেতা খালেক নেওয়াজ গ্রেপ্তার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিব ১৯৫২ সালের ৬ জুলাই নববাবপুর রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে খালেক নেওয়াজের মায়ের উদ্দেশ্যে আচারগাঁও, পোস্ট নান্দাইল, ময়মনসিংহের ঠিকানায় একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাতে তিনি বলেন, '... আপনার ছেলে খালেক নেওয়াজ আজ জেলখানায়। এতে দুঃখ না করে গৌরব করাই আপনার কর্তব্য। যদি কোন কিছুর দরকার হয়, তবে আমায় জানাতে ভুলবেন না। আমি আপনার ছেলের মত। খালেক নেওয়াজ ভাল আছে। জেলখানা থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে। সে মওলানা ভাসানী সাহেবের সাথে আছে।' তেমনি আবার ১৯৬৬ সালের ৪ আগস্টে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি নূরুল ইসলাম চৌধুরীকে লিখিত এক চিঠিতে শেখ মুজিব বলেন, 'বোধহয় আপনার খুব কষ্ট হচ্ছে। ভাবী বুড়া হয়েছেন, বার বার বগুড়া যেতে কষ্ট হয়। কেমন আছেন আমাকে জানালে বাধিত হব। আমি অনেক জেল খেটেছি আমার জন্য ভাববেন না।' বিভিন্ন জনকে লেখা বঙ্গবন্ধুর চিঠিই শুধু নয়, বঙ্গবন্ধুকে লেখা অনেকের চিঠিও পাকিস্তান সরকারের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাজেয়াপ্ত করেছিল। সে সকল চিঠি থেকে জাতির জনক সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বড় কথা হলো, এসব চিঠিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আবেগ ও উদ্বেগসহ অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টান পরিস্ফুট হয়েছে। ১৯৫১ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার ১৮ নং কারকুন বাড়ি লেন থেকে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি মুজিবকে লেখা একটি চিঠিতে বলেন, '.... তোমার মুক্তির জন্য সরকারের দৃষ্টি বহুবার আকর্ষণ করিয়াছি, কিন্তু ছেলে অন্ধ হইলে নাম পদ্মলোচন রাখলে লাভ কি। ধৈর্য ধারণ কর।
আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন। দেশের মুক্তির সঙ্গে তোমার মুক্তি।' ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ ঢাকা থেকে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া টুঙ্গিপাড়ার ঠিকানায় বঙ্গবন্ধুকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন : 'The condition at Dacca is still uncertain. Arrests are continuing. Shamsul Haq has surrendered on 19th. Khaleque Newaz and Aziz Ahmed surrendered on 27th & 28th respectively. There is no information from Moulana Sahib. Long ago we recived communication from him that he was suffering from blood pressure. (ঢাকায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। ধরপাকড় চলছে। শামসুল হক আত্মসমর্পণ করেছেন ১৯ তারিখে। খালেক নওয়াজ এবং আজিজ আহমেদ যথাক্রমে ২৭ ও ২৮ তারিখে আত্মসমর্পণ করেছেন। মওলানা সাহেবের কাছ থেকে অনেক দিন কোন খবর নেই। শুনেছিলাম তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।)' বঙ্গবন্ধুকে লেখা নামজাদা ব্যক্তিবর্গের নয়, মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীর লেখা চিঠিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। শেখ মুজিব যখন আওয়ামী মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তখন ঢাকার জিপিও থেকে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত ঢাকার পল্টন হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আবদুল কাদের মিয়ার চিঠিতে বলা হয়, '... এখন হইতে পত্রিকা ও ২ খানা 'আওয়ামী লীগের' ম্যানিফেস্টো পাঠাইয়া দিলে 'আওয়ামী লীগ' আরেও জনপ্রিয় হইয়া উঠিবে। ইহাই আমার আকুল প্রার্থনা, আপনার নিকট, ভাই সাহেব আপনার সহকর্মীদের কাছে আমার সালাম বলিবেন।' ১৯৫৪ সালের ৮ অক্টোবর গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দি শেখ মুজিবের ঠিকানায় চিঠি লেখেন জনৈক শহীদ। মুজিবকে 'ভাইজান' বলে সম্বোধন করে ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন,
'... অনেকে কাঁদে, অনেকে দুঃখ করে আর আমাদের অপবাদ দেয়। বলে তোমরা কেন 'তাকে' জেলে রেখে চুপ করে বাইরে আছ। গোপালগঞ্জের মানুষ প্রতিটি মুহুর্তে তারা ফরিয়াদ জানায় আল্লাহর কাছে তাদের প্রিয় নেতার জন্য। কত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আল্লাহর দরবারে ' রোজা নামাজ মানত' করে আপনার মামলার তারিখে।' ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুমিল্লার উত্তর চর্থা থেকে মো. আছমত আলী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি মুজিবকে এক চিঠিতে বলেন, '... ক্ষুদ্র জীবনে দেশ ও সমাজের জন্য সত্যিকারভাবে 'সেবার' মনোভাব নিয়া যতটুকু কাজ করিতে পারিয়াছি তার জন্য মালিকের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করিতেছি, সত্যিকারের কর্মীরা পদ মর্যাদা ও অর্থ লোভের জন্য রাজনীতি করে না। সেই জন্য তাদের স্ত্রী-পরিবার ঔষধের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। জেলে গেলে এদের পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন স্বযং খোদা। বিশেষ আর কি লিখিব। কায়মনবাক্যে সর্বশক্তিমানের দরবারে আপনার মঙ্গল কামনা করি,
দোয়া করিবেন।' মো. আছমত আলীর একই চিঠিতে পুনশ্চ হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর শেষ পত্রের দু'টি বাণীর উদ্ধৃতি দেওয়া আছে, (১) কেউ যদি কাজ না করে তবে কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। কেবল জনসভা করাই যথেষ্ট নয়। মুসলিম লীগকে গড়তে কী পরিশ্রম না আমরা করেছি। আজও ঠিক সেইভাবে ব্যাপক খাঁটা-খাটুনির দরকার। (২) .. মনে হয় না, রাজনীতি করার মত মন আমার হবে। আয়কর আর দেনাদায়িক মিটানোর জন্য সব কিছু ছেড়ে আমাকে টাকা আয়ে মন দিতে হবে। দেখ আমরা যারা আগের জমানার নেতা তারা কেবল নিয়মতান্ত্রিক পথেই চলতে জানি কিন্তু তাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। --------------------------------------------------------------------------------------- লিখেছেন : মোনায়েম সরকার , রাজনীতিক ও গবেষক  

Thursday, September 17, 2015

মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যের শিকার কেন? মোকতেল হোসেন মুক্তি

SUPPORT AWAMI LEAGUE

মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যের শিকার কেন? 

বলা হয়ে থাকে সকল মুক্তিযোদ্ধারাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান। তাহলেই সকল মুক্তিযোদ্ধারা জাতিগতভাবেই ভাই ভাই অর্থাৎ জাত ভাই বা যোদ্ধাভাই কারণ সকলের পদবী তারা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনী বা মুক্তিফৌজ "বিচ্ছু"।জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্রের যদি বৈষম্য না থাকে তাহলে আমরা সকলেই মনুষ্যপ্রাণী। আমরা আল্লাহ্‌ তায়ালার সর্ব শ্রেষ্ট জীব (মানুষ-মান ও হুষ=)মানুষ।রক্ত মাংস জ্ঞান বুদ্ধি চৈতন্য উপলব্ধি অনুভূতি অতি তীক্ষ্ণ ও সূক্ষ্মভাবে স্নায়ুতন্ত্রের সাথে স্থাপন করেই আদিম রুপে একটি মাক্বলুকাত আল্লাহ্‌ সোবহানাল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছিলেন। বহু জ্ঞানী গুনি ঋষি দার্শনিক সাম্যবাদ মানবতাবাদের বহুবিধ তত্ত্ব, তথ্য ব্যাখ্যা হাজারো ভাবে প্রদান করেছেন। সকলের সকল গবেষণার মুল লক্ষ্য সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। বিধাতাও মনুষ্যজাতির মধ্যে ভেদাভেদ রেখে সৃষ্টি করেন নি, তাই আমরা আশরাফুল মাক্বলুকাত অর্থাৎ আমরাই শ্রেষ্ঠ জীব ।তো সে শ্রেষ্ট জীব মানব জাতিকে লক্ষ কোটি শ্রেণীতে আমরাই বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছি নিম্নশ্রেণী, নিম্নবিত্ব, মধ্যশ্রেনী-মধ্যবিত্ব উঁচু শ্রেণী উচ্চবিত্ব। আমরাই সৃষ্টি করেছি হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান। আমরাই ধনি গরীবের স্রষ্টা; আমরাই সমাজ ও সমাজপতি; আমরাই ধনি আমরাই গরীব আমরাই শ্রেনীবিভেদের কুঠার আঘাতে মানব সভ্যতাকে করেছি উঁচু নিচু ও মধ্যশ্রেণী বিন্যাস।যখন রাজনৈতিক নেতাগণ অসহায় নিরীহ ঘর ছাড়া বাস্তহারা জীর্ণ শীর্ণ অথর্ব লাচারের নিকট ভোট ভিক্ষা চাইতে যান,
তখন তারা ভুলে যান শ্রেনীবিভেদের অহমিকা ও অহংকারের কথা; তখন বস্তির দুর্গন্ধে তাদের নাগ কারণ ঐ জীর্ণ শীর্ণ অসহায় ব্যক্তিটির একটি মহা মূল্যবান ভোট তাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে। সে কারণে অনেক লোভনীয় আশ্বাসের বানী শুনিয়ে ঐ অসহায় ব্যক্তিটিকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখান। ঠিক একই ভাবে অনেক রাষ্ট্র প্রধানগণই এই ৩ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও বহু আশ্বাসের বানী শুনিয়ে, মাথায় থ্রি নাট থ্রি বন্দুকের ছবিওয়ালা টুপি পড়িয়ে, এক বেলা বিরিয়ানি খাইয়ে ক্বোরবানীর গরু প্রদর্শনীর মত লঙ মার্চ করতে শের ই বাংলা নগর অথবা বিজয় স্বরনীতে নিয়ে প্রখর রৌদ্রতাপে মগজ ঝলসে দেন। ভূয়সী প্রশংসা করেন; সনদ বিতরণ করেন; স্বর্ণের নামে পিতলের স্ক্রেচ প্রদান করেন; দুই চার হাজার টাকাও দেয়া হয় মাঝে মধ্যে। ধরে নিলাম ওরা চোর লুটেরা জ্ঞানহীন লোভী দুর্বৃত্ত! তাই মন্ত্রী সচিব থেকে শুরু করে আয়োজকের সবাই মুক্তিযোদ্ধা ও বিদেশী সকল মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সৌজন্যে “সন্মান না” প্রদর্শনের নামে লুট পাট করেছে। স্বর্ণ দিয়ে স্ক্রেচ তৈরির নাম করে ৩ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা, জাতিরজনক এবং বিদেশী সমর্থক গোষ্ঠীর সকলকে অপমান ও কলুষিত করেছে। সে বিচার জাতি না হয় নাই চাইলো।আমার এ লেখার প্রসঙ্গ তা’নয়। ক্যাপ্টেন তাজ কি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কি করেছেন? আমি সেদিকে যাবো না। এমন কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সহজ সরল বুদ্ধিদীপ্ত গুণীজন “স্বাধীন বাংলা বেতার কাঁপানো”#চরমপত্রের” রচয়িতা এম আর আকতার মুকুল স্যারকে দিয়ে করানো মরহুম ব্রিগেডিয়ার আমিন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ভুয়া অধ্যক্ষ আহাদ চৌধুরী, বি এন পি’র রেদোয়ান আহমেদ বা বর্তমান হেলাল মোরশেদের কথাও বলতে যাবো না।
সব দুর্বৃত্তরাই এ ক্ষুদ্রভূমির সম্পদগুলো বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ প্রকল্পের নামে, উন্নয়নের নামে, রাজনীতির নামে, সংস্কারের নামে লুটে পুটে খেয়েছে। তাদের কথা লিখে আবার মামলা খেতে রাজি নই।কিন্তু যে কথাটি বলতে চাই-সে কথাটি বলে কোন পণ্ডিতের অশ্রাব্য গালি খেতে হয় কেই জানে? তবু বলতে হয়; বলতে হবে। না বললে যে আমার উপরই আমি অবিচার করবো। সম্প্রতি সর্বজনবিদিত প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে বিতর্কিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাননীয় সাংসদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম সইয়েদ মোহসীন আলী ও আমার ভারতে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষন কালীন ডেপুটি কম্যান্ডার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক স্যারের মৃত্যুতে দেশের প্রধান দুই কর্ণধার কর্তৃক একজনকে মহাসন্মান আর একজনকে রাষ্ট্রীয় অমর্যাদার কারণে আমার বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা সকল হতাশা আজ আগ্নেয়গিরির অগ্নি স্ফুলিঙ্গের মতই জ্বলে উঠতে চাইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে কোন একজন ষ্টাফ এ শোকবানী গুলো প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করেন। অতি সামান্য কাজ। এ কাজটি করতে কারো অনুমোদনের দরকার হয় না।যদি সমাজকল্যানমন্ত্রী মহোদয় মৃত্যুকালীন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পান, তাহলে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক স্যার কেন পাবেন না? এক দেশ, একই মুক্তিযুদ্ধের নায়ক, একই যোদ্ধা, একদিনেই মৃত্যুবরন করলেন। মর্যাদার ক্ষেত্রে কেন দুই রকম? এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবেন?মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার জন্য? শুধুমাত্র এম পি মন্ত্রী আর জেনারেলদের জন্য? ভেবেছিলাম, জীবনে আর কারো বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অপকর্মের বিরুদ্ধে কখনোই লেখা লেখি করবো না। কিন্তু পারলাম না চুপ থাকতে।আপনারা বড় বড় জ্ঞানি উচ্চ শিক্ষিত কবি সাহিত্যিক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিক্ষক ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার উকিল মোক্তার সবাই আমার চেয়ে অনেক ঢের বেশী বোঝেন। তাই আপনাদের হাতেই দেশ চলছে; উন্নয়ন হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ধরে নিলাম এই এগিয়ে যাবার পিছনে-আমি হতভাগা মুক্তির বিন্দুমাত্র অবদান নেই। বুঝে নিলাম-আবারো আমি কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হব। তাতে এতটুকুন ভয় নেই আমার।১৬ কোটী ১০ লক্ষ মানুষই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৃষ্টিতে সমান মর্যাদা সম্পন্ন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবলে একজন পিতা আর একজন মাতা।
একজন মুক্তিযোদ্ধার মহা প্রয়াণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শোক বানী মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়; ঠিক পাশাপাশি আর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ শিখিত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে একটি সংবাদও প্রচার করা হয় না ?মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজকল্যানমন্ত্রীর জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শোকবানী প্রেরণ করা হয়;মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মাষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের ক্ষেত্রে সেটিই হল না কেন? আমি জাতির কাছে জানতে চাই; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে কৈফিয়ত চাই। জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়ে দিন।এই বৈষম্যের কারণেই বাঙ্গালী জাতির প্রানের দাবী ১১ ও ৬ দফা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রণীত হয়েছিল। এই বৈষম্যের কারণেই পশ্চিমা হায়েনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই।সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়মর্যাদা সমানভাবে প্রদান না করা হলে ধরে নেবো স্বাধীনতার ফসল ৭০ দশকের হায়েনাদের ঘরে । 

মোকতেল হোসেন মুক্তি সহ সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগ সভাপতি, সময়৭১ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ। 

Saturday, August 9, 2014

১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট

১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট গুটিকয়েক বন্দুকধারী বিপথগামী কুজন্মা কুলাঙ্গার এই বিশ্বকাপানো বিশ্বনেতাকে রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মত স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকায় আবার চন্দ্রবিন্দু (চাঁদ তারা) বসানোর হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলো। ওরা এখনো গোটা দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে গঞ্জে আস্তানা গেড়ে আছে ধর্মের নামে, ইসলামের নামে, ধর্মীয় শিক্ষার নামে এবং ওদেরকে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আর্থিক সহায়তাসহ সার্বিক পরিচালনা করছে, তাদের কেউ না কেউ, কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের ভিতরেও প্রবেশ করতে পেরেছে। জাতিরজনকের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে ঠিক বঙ্গবন্ধুর মতো একই উদার নীতির বিপক্ষে কিছু কথা বলার জন্যই এ লেখা শুরু করেছি। হয়তো বুঝিনা, অথবা না বুঝেই পোদ্দারপট্টির অথর্ব প্রফুল্ল পোদ্দারের মতো দোকানে কোনো কাষ্টমার না থাকলে যেমন বিড় বিড় করত, ঠিক তেমনি কিছুক্ষণ বিড় বিড় করে ঘুমিয়ে পরবো । আমরা হচ্ছি ছাগলের তিন নম্বর। বাচ্ছা শব্দটি আর লিখলাম না। কারণ নেতানেত্রীগণ আমাদের যতোই বাচ্ছা বলে এড়িয়ে যাকনা কেনো আমরা আর বাচ্ছা নই, শুধু তাই নয়, আমাদের বাচ্ছারাও এখন মূখ ফুটে তাদের মনের কথা বলতে শিখেছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম আমাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক সতর্ক ও স্বচেতন মেধার অধিকারী ।

 

Monday, September 9, 2013

আপনার বিবেককে জাগ্রত করুন -বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন।

SUPPORT AWAMI LEAGUE, VOTE NOUKA ONCE AGAIN

আপনার বিবেককে জাগ্রত করুন -বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। জোট সরকারের সংখ্যালঘু নির্যাতন
১। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সমগ্র বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করলো কারা ? 
২। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর পূর্ণিমা ফহিমা রীতা রানীদের সম্ভ্রম হানী করলো কারা। ? 
৩। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ভোলার ইউ পি সদস্য সেফালী সরকারের সম্ভ্রমহানী করলো কারা ?
৪। ২০০১ সালের ৪ঠা অক্টোবর লালমোহনের রীতা রানী দাসকে গনধর্ষণ করলো কারা ?
৫। ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর উল্লাপাড়ার নিজ মায়ের সামনে পূর্নিমা রানীকে গনধর্ষন করেছিল কারা ?
৬। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর মোল্লার হাটে বোমা বিস্ফারণ ঘটিয়ে হিন্দুদের মারলো কারা ?
৭। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর মীরেরসরাইতে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করলো করা ?
৮। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর রাউজানের প্রভাত দাসের বাড়ী জালিয়ে দিয়েছিল কারা ?
৯। আগৈলঝড়ার ১৪ বছরে কিশোরী রাসমনি বাইনকে নির্যাতন করেছিল কারা ?
১০। গৌরনদীর অন্ত:সত্ত্বা সাবিত্রী দাসকে গন ধর্ষণ করেছিল কারা ?
১১। অন্নদাপ্রসাদ গ্রামের বাল্য বধির সেফালী রানী দাসকে ধর্ষন করেছিল কারা ?
১২।বাঁশখালিতে ১৩ জন সংখ্যালঘুকে পুড়িয়ে মেরেছিল কারা ?
১৩। লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে নিজ বাড়ীতে গৃহবধু সুজাতা রানীকে ধর্ষন করেছিল কারা ?
১৪। আগৈলঝড়ার ইউপি সদস্য রেনুকা রানীকে ধর্ষন করেছিল কারা ?
১৫। গফরগাওয়ের জ্যোতস্নাকে গণধর্ষন করেছিল কারা ?
১৬। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে হিন্দু পাড়ায় হামলা করেছিল কারা ?
১৭। বাগেরহাটের যাত্রাপুরের ঠাকুর বাড়িতে এক রাতে ২৩ জন গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছিল কারা ?
১৮। নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহরীকে হত্যা করলো কারা ?
১৯। ২৩। রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা করে জ্বালিয়ে দিলো কারা ?
২০। আবারো কি লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু দেশ ছাড়া হবে ?

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণ বাঙালির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা

SUPPORT AWAMI LEAGUE, VOTE NOUKA ONCE AGAIN

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণ বাঙালির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা সূধীজন প্রতিক্রিয়া….

 
যারা ভেবেছিল ১৫ই আগস্ট জাতির জনককে হত্যা করে ইতিহাসের স্রোতস্বিনী নদীর পথ বদলে দেবে তারা ভুল করেছিলো। যারা ভেবেছিল দেবশিশু রাসেলকে হত্যা করে এদেশের ভবিষ্যৎ এর মুখে কুলূপ এঁটে দেবে তারা ভুল করেছিলো। যারা ভেবেছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এদেশের নিয়মকানুনের ধারার পায়ে বেড়ি পেরিয়ে দেবে তারাই’ তারা সকলে ভুল করেছিল। ইতিহাসের শাখা প্রশাখা ঘুরে মহাত্মা গান্ধীকে দেখতে পেয়েছিলাম যিনি অহিংসার পুজারী ছিলেন। নাথুরাম গডস নামক একজন ঘৃণিত মানুষ তাকে হত্যা করেছিল। রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার এর সাথে নিরস্ত্র অবস্থায় বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাকে হত্যার মাধ্যমে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দ্রেকে কুচক্রীরা হত্যা করেছিল। পাবলো নেরুদার মতো দেশপ্রেমিক যার হ্রদয় ছিল স্বদেশ, স্বদেশেরই করুণ ট্রাজেডির শিকার তিনিও। এভাবে পৃথিবীর অসংখ্য সূর্যসন্তানদের উচ্চাভিলাষী দুর্বল সংকীর্ণ মানুষগুলো হত্যা করলেও এই ভালবাসার মানুষগুলো দেশ হয়ে উঠে।
১৯২০ সালে টঙ্গিপাড়ায় যে ছেলেটির জন্ম হয়েছিল পরাভূত বাঙালির মুক্তির জন্য যিনি দীর্ঘজীবন কারাগারে অন্তরীন থেকেও মুক্তির নেশায় উব্দেলিত ছিলেন যারা লালিত স্বপ্ন একদা মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্মদান সম্ভব হয়েছিল সেই অসম সাহসিক ভালবাসার মানুষটিকে নির্মমভাবে ষড়যন্ত্রের বেড়ায় আবদ্ধ করে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। এদেশপ্রেমিক মানুষটিকে হত্যার মাধ্যমে তিনি দেশ কেন বাঙালির হৃদয়ে পরিণত হয়েছিলেন।
তাঁর আত্মার স্পন্দন জাতির বিবেকের কাছে অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়েছে। বিচ্ছেদ ও বিষাদে ঢাকা তার বত্রিশ নম্বর ধানমন্ডি প্রতিটি বাঙালির দীর্ঘশ্বাসে উপজীব্যতা পেয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মুখে সেঁটে গেছে এক রাসেলের নিষ্পাপ মুখ।
পৃথিবী যতদিন থাকবে’ ততদিন যেমন বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ভালবাসা, দেশপ্রেম, ৭ই মার্চ থাকবে। তেমনি থাকবে খন্দকার মোশতাকসহ সমস্ত মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী মানুষগুলোর নাম ব্র“টাস্ মীর জাফরদের কলঙ্কিত অধ্যায়ে। ওরা পশু ছিলানা কারণ পশুরা প্রকৃতির নিয়মে চলে। ওরা মানব নামে দানব ছিল। ছিল বলেই রাতের আলো আধারীতে ষড়যন্ত্রে বেড়াজাল বুনতে ভালবাসতো। একাত্তরে যারা জেনারেল ইয়াহিয়া, জুলফিকার আলী ভূট্টোর পা চেটেছিল, ১৯৭১ সালে যারা নিক্সন কিসিঞ্জারের বিদেশনীতিতে উষ্কে উঠেছিল, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ছিল তারাই ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সমূলে উৎপাটনের প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। ভাবতে অবাক লাগে তৎকালীন সেনা অফিসার জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর ৭ দিনের মধ্যেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশের সূর্য সন্তান স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অর্ন্তভূক্তি ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেছিলেন। বাঙালির ইতিহাস বিভ্রান্তি অবাক করে, সঠিক ইতিহাস দিনের পর দিন বিকৃত করা হয়েছে। মুছে দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে ১২১ টি দেশ স্বীকৃতি দান করেছিল অথচ, কেন ১৯৭৫ সনে এসে ১৬ই আগস্ট সৌদিআরব ও ৩১ শে আগষ্ট চীন স্বীকৃতি দেয়? এবং লিবিয়া কিভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দান করে? কেন বৈদেশিক অর্থের যোগান ঘটে ? কিভাবে সি.আই.এ বঙ্গবন্ধুর খুনের সথে চক্রান্তে ছিল ?।
কেন পরাজিত পাকিস্থান বাহিনী ১৫ই আগষ্টকে অভ্যূত্থান বলে ঘোষনা দিয়েছিল ? সেই আগস্ট মাসেই কিভাবে পাকিস্থান ৫০ হাজার টন চাল দেড় কোটি গজ কাপড় বাংলাদেশকে তৃপ্তিভরে উপঢৌকন দেয়। তারজন্য একদিন আর্ন্তজাতিকভাবে তাদের ক্ষমা চাইতেই হবে। কারণ যেখানে বঙ্গবন্ধুর শরীরে দেশের মাটি উর্বর হয়েছে, সেখানে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের রক্তে স্রোতস্বিনী নদীতে বান ডেকেছে। যেখানে জাতীয় চারনেতার নিঃস্বার্থ দেন ও সর্বোচ্চ মানে বাংলার পাহাড় উপত্যকা সমৃদ্ধ হয়েছে, সেখানে কোন চক্রান্ত ও দূরভীসন্ধিকারী পালাবার পথ খুঁজে পাবেনা।
১৫ই আগষ্টের পর ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত পুরো বাংলাদেশকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। রাতের ঢাকাতে ছিল আর্মির হুইসেল, ট্যাংকের ঝমঝম দানবের শব্দ, নিষ্ঠুর, কৃপন, কপট, ধূর্ত মানুষগুলোর আভ্যন্তরীন ও আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের ফিসফিস রঙ্গালাপ। আমাদের চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মনছুর আলী ও তাজউদ্দিন আহমেদকে তাদের মন্ত্রী পরিষদের শপথ করিয়ে তাদের আইনের কঠোর বেড়াজালে বাঁধতে চেয়েছিল। মাথানত করেনি আমাদের নেতৃবর্গ। সংবাদপত্রের উপর ষড়যন্ত্রকারীরা সেন্সরশিপ দিয়ে রাজনৈতিক কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড স্থবির করে অগনীত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গুপ্ত হত্যা করা হয়েছিল। যার কোন হিসাব নেয়। জাতীয় চারনেতার বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের সম্ভার, অমোঘ দেশপ্রেম কুচক্রীদের যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারারুদ্ধ অবস্থায় তাদেরকে ৩রা নভেম্বর হত্যা করা হয়। তারপর দীর্ঘ অরাজকতা, ভোটের নামে ভোট ডাকাতি। ইতিহাসের সব মহৎ মানুষগুলোকে হত্যার পেছনে কারণ ছিল ভালবাসা ও দেশপ্রেম।
১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আগমন ৩২ নং ধানমন্ডিতে পদচারনে পুরো বাংলাদেশ যেন কেঁদেছিল সেদিন। অঝোর ধারায় সেই বর্ষার বাদল আর মানুষের কান্না এক হয়েছিল। যেন হারানো এতিম সন্তানটা ঘরে ফিরল। কোন প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় পুরো পৃথিবীর দুয়ারে পিতৃহত্যার বিচার চাইতে চাইতে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলকরণের মাধ্যমে পিতৃহত্যার বিচারে তিনি সফল হয়েছিলেন। ধণ্যি শেখ হাসিনা।
আমাদের বোন, শেখ হাসিনাকে বলছি, তোমার স্বপ্নই আমাদের আলোদীপ্র, তোমার আনন্দ আমাদের উৎস, তোমার অনুভব আমাদের অনুভূতি, তোমার ত্যাগ আমাদের দেশপ্রেম, তোমার বুকজুড়ে দেখ আমাদের ভালবাসা, আমাদের চোখে দেখ তোমারই ‘সোনার বাংলা’ কতটা কাছে, হাতবাড়াও তোমারই চৌহদ্দীতে।

কথা কম কাজ বেশী

SUPPORT AWAMI LEAGUE 
আওয়ামী লীগ 'কথা কম কাজ বেশী'' নীতিতে বিশ্বাসী। ৪২ বছরের বাংলাদেশে যতোগুলো সরকার এসেছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে অতি দক্ষতার সাথে বিচক্ষনতার সাথে মহা দুর্যোগ ৫ ও ৬ ই মে'র মতো ভয়াবহ চক্রান্তকে অতি সুনিপুন দক্ষ প্রশাসকের ন্যায় অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে নশ্চাত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য কোন সরকার হলে ওই রাতে ঢাকায় রক্তের হলি খেলা বয়ে যেতো। আওয়ামী লীগ শুধু কথায় বিশ্বাসী নয়। এক) আওয়ামী লীগ সুদক্ষ বিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ঢাকা মহানগরকে বিশ্বের অন্যান্য রূপসী নগরের মতোই সর্ব শ্রেনীর মানুষ বাসযোগ্য করে তুলেছে এবং তা'শূধু মাত্র এই ৪ বছর আট মাসে। হাতির ঝিলের নোংড়া বদ্ধ ডোবাকে আওয়ামী লীগ সরকার করে তুলেছে হংকং লন্ডন সিঙ্গাপুর কুয়ালালামপুরের মতো মুক্ত হাওয়ায় স্বপরিবারে ছেলে মেয়ে স্ত্রী পুত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো একটু মনোরম পরিবেশ;
দুই) যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারঃঢাকা মহানগর থেকে সিলেট কুমিল্লা নোয়াখালী চট্টগ্রাম নরসিংদীগামী লক্ষ লক্ষ যাত্রী বাস ট্যাক্সী প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা ট্র্যাফিক জ্যামের কারনে গাড়ীতে বসে থাকার অসহ্য যন্ত্রনা পোহাতে হতো। গর্ভবতী অনেক মহিলা রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে। আজ শেখ হাসিনার সরকার সে সমস্যস সমাধান করেছে। আজ আর লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাড়ী ফেরার জন্য বা ঢাকা আসার পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় গাড়ীতে বসে হা হুতাশ করতে হয়না। সরকার কিসের জন্য? কর জন্য? সরকার মানুষের জন্য। মানুষের কল্যাণের জন্য। বিগত বি এন পি সরকারের আমলে কি হয়েছিল? উন্নয়নের টাকা হাওয়া ভবনে খাজনা হিসেবে দিতে হয়েছে। বিদ্যুতের খাম্বা লাগানোর টেন্ডার জমা হয়েছে হাওয়া ভবনে। বিদ্যুতের কোন কাজ সারা বাংলায় না করেই তারেক মামুনরা টেন্ডারে উল্লেখিত কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে বিদেশী ব্যাংকে জমা করেছিল। তিন) উত্তর বঙ্গের কোটী জনতার ঢাকা প্রবেশ পথে ট্র্যাফিস জ্যাম ছিল একটি একটি অভিশাপ। এ অভিশাপের মূল কারন ছিল ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত দীর্ঘ দুই তিন মাইলের ট্র্যাফিক জ্যাম। এ বিশাল জাতীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি সেনাবাহিনীর তদারকিতে ফ্লাই ওভার নির্মাণের চিন্তা করেন এবং বিল পাশ করেন। স্থাপন করা হয় বনানী থেকে মিরপুর ক্রসিং ফ্লাই ওভার, খিলক্ষেত থেকে কুড়িল, বাড্ডা মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডার মূল প্রবেশ দ্বারে কয়েকটি ফ্লাই ওভার যাতে উত্তর বঙ্গের যে সব যাত্রী যাত্রাবাড়ী নারায়ণগঞ্জ চট্টগ্রাম নোয়াখালী কুমিল্লা চাঁদপুরে অতি সহজেই যেতে পারেন। আর বি এন পি সরকারের আমলে সাদেক হোসেন খোকা মীর্জা আব্বাস ইউ এস এম্বেসীর সামনের ওভার ব্রীজের টাকা মেরে খাওয়াতে তা' ভেঙ্গে পড়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। খিল গাও ফ্লাই ওভারের টেন্ডারের টাকা তারেক জিয়াকে ভাগ দেয়ার কারনে সে অবস্থায়ই অসমাপ্ত অবস্থায় মানুষের দুর্যোগ আরো তিন গুন বাড়িয়ে দিয়েছিল। 
বিচার বিবেচনা বিশ্লেষন আপনাদের বিবেকের কাছে। আগামী নির্বাচনে আপনারা কি সেই খাম্বা চোরের লুটেরা বাহিনীকে ক্ষমতায়ন করতে চান, নাকি "উন্নয়নের রানী" জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় দেখতে চান?